ASSAM
নাগরিক সুরক্ষা কমিটির প্রতিবাদী কলম
শ্রীভূমির বাজারিছড়ার ছাগলমোয়া গ্রামের বিজেপি বুথ সভাপতি বিকাশ ধরকে গত ১২ আগস্ট বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নাগরিক অধিকার রক্ষা সমিতি, আসাম গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
একই সঙ্গে, এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের শাসনের দাবি তোলাকে কেন্দ্র করে গৌহাটি হাইকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃত্ব হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে কুৎসা, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।
হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী ১৯৭৯ সাল থেকে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ঊর্ধ্বে উঠে অধিকারবঞ্চিত মানুষের পক্ষে কাজ করে আসছেন। তিনি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন, বার কাউন্সিলের নর্থইস্ট চ্যাপ্টারের সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একসময় A. K. Chanda Law College, Silchar-এর Principal ছিলেন। তিনি South Africa-র একটি Law University-তেও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিদেশে পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও নিজের মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং বাঙালি জাতির প্রতি কর্তব্যবোধের তাগিদে তিনি বিদেশের চাকরি ত্যাগ করে আসামের মাটিতে ফিরে আসেন। তাঁর দীর্ঘ জনজীবন অন্যায়, বৈষম্য ও অধিকারহরণের বিরুদ্ধে অবস্থানেরই পরিচয় বহন করে।
তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক বা আইনগত সমালোচনা করার অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু কুৎসা, চরিত্রহনন, ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা বক্তব্যকে খণ্ডিত ও বিকৃত করে তাঁকে হেয় করার প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করে। আমরা এই প্রবণতার অবসান দাবি করছি।
আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া “বাংলাদেশি” তকমা কেন?
নাগরিক অধিকার রক্ষা সমিতি দীর্ঘদিন ধরে আরও একটি বিপজ্জনক প্রবণতার বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে—কোনো অপরাধ, অশান্তি বা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে “বাংলাদেশি” বলে চিহ্নিত করার প্রবণতা।
আমাদের সরাসরি প্রশ্ন—
একজন মানুষ বাংলাদেশি, ভারতীয় না পাকিস্তানি—এই পরিচয় নির্ধারণ করবে কে?
নাগরিকত্ব কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য, অভিযোগ, জনশ্রুতি বা সামাজিক প্রচারের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে না। এটি আইন ও সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার বিষয়। কারও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তদন্ত, প্রমাণ, শুনানি এবং আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তার নিষ্পত্তি হতে হবে।
আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে “বাংলাদেশি” তকমা দেওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদাকে আঘাত করে না; এটি সামাজিক বিদ্বেষ, বৈষম্য ও বিভাজনের পরিবেশও তৈরি করে।
আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—
অপরাধের তদন্ত হোক অপরাধের ভিত্তিতে; নাগরিকত্বের প্রশ্নের নিষ্পত্তি হোক আইনের ভিত্তিতে। কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক বা সামাজিক সুবিধার জন্য “বাংলাদেশি” তকমা দেওয়া চলবে না।
আমরা সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিকের কাছে সংযম ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানাচ্ছি। বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন কুৎসা, বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক বিভাজন কিংবা নাগরিক-পরিচয় নিয়ে নির্বিচার প্রচারের পরিবেশ তৈরি না হয়।
নাগরিক অধিকার রক্ষা সমিতি, আসাম
সভাপতি: নৃপেন্দ্র চন্দ্র সাহা, তেজপুর
উপদেষ্টা: তপোধীর ভট্টাচার্য, প্রাক্তন উপাচার্য, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, শিলচর
সচিব প্রধান: সাধন পুরকায়স্থ, শিলচর
সাধারণ সম্পাদক: বিধায়ক দাশ পুরকায়স্থ, চিরাঙ
সাধারণ সম্পাদক: কিশোর ভট্টাচার্য, শিলচর
সাধারণ সম্পাদক: সমীরণ চৌধুরী, শিলচর
সাধারণ সম্পাদক: শেখর দে, গুয়াহাটি
সাধারণ সম্পাদক: চন্দন মজুমদার, ডিবরুগড়
কার্যকরী সভাপতি: কমল দত্ত, হোজাই
অধ্যাপক: তাইজ উদ্দিন, বরপেটা
আইনজীবী: সহদেব দাশ, গুয়াহাটি
সহসভাপতি: নিবাস দাশ, গুয়াহাটি
সদস্য: রঞ্জন পাল, লামডিঙ
আইনজীবী: নজরুল ইসলাম, গোয়ালপাড়া
আইনজীবী: নজরুল হক মাজার ভূঁইয়া, গুয়াহাটি
আইনজীবী: জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, করিমগঞ্জ
আইনজীবী: বিনোদলাল চক্রবর্তী, করিমগঞ্জ
আইনজীবী: রুখন উদ্দিন, হাইলাকানদী
সদস্য: মাধবী শর্মা, হাইলাকানদী
অধ্যাপক: নিরঞ্জন দত্ত, শিলচর
সদস্য: মধুসূদন কর, শিলচর
সহ অন্যান্য পদাধিকারীবৃন্দ
একই সঙ্গে, এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের শাসনের দাবি তোলাকে কেন্দ্র করে গৌহাটি হাইকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃত্ব হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে কুৎসা, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।
হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী ১৯৭৯ সাল থেকে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ঊর্ধ্বে উঠে অধিকারবঞ্চিত মানুষের পক্ষে কাজ করে আসছেন। তিনি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন, বার কাউন্সিলের নর্থইস্ট চ্যাপ্টারের সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একসময় A. K. Chanda Law College, Silchar-এর Principal ছিলেন। তিনি South Africa-র একটি Law University-তেও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিদেশে পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও নিজের মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং বাঙালি জাতির প্রতি কর্তব্যবোধের তাগিদে তিনি বিদেশের চাকরি ত্যাগ করে আসামের মাটিতে ফিরে আসেন। তাঁর দীর্ঘ জনজীবন অন্যায়, বৈষম্য ও অধিকারহরণের বিরুদ্ধে অবস্থানেরই পরিচয় বহন করে।
তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক বা আইনগত সমালোচনা করার অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু কুৎসা, চরিত্রহনন, ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা বক্তব্যকে খণ্ডিত ও বিকৃত করে তাঁকে হেয় করার প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করে। আমরা এই প্রবণতার অবসান দাবি করছি।
আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া “বাংলাদেশি” তকমা কেন?
নাগরিক অধিকার রক্ষা সমিতি দীর্ঘদিন ধরে আরও একটি বিপজ্জনক প্রবণতার বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে—কোনো অপরাধ, অশান্তি বা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে “বাংলাদেশি” বলে চিহ্নিত করার প্রবণতা।
আমাদের সরাসরি প্রশ্ন—
একজন মানুষ বাংলাদেশি, ভারতীয় না পাকিস্তানি—এই পরিচয় নির্ধারণ করবে কে?
নাগরিকত্ব কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য, অভিযোগ, জনশ্রুতি বা সামাজিক প্রচারের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে না। এটি আইন ও সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার বিষয়। কারও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তদন্ত, প্রমাণ, শুনানি এবং আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তার নিষ্পত্তি হতে হবে।
আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে “বাংলাদেশি” তকমা দেওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদাকে আঘাত করে না; এটি সামাজিক বিদ্বেষ, বৈষম্য ও বিভাজনের পরিবেশও তৈরি করে।
আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—
অপরাধের তদন্ত হোক অপরাধের ভিত্তিতে; নাগরিকত্বের প্রশ্নের নিষ্পত্তি হোক আইনের ভিত্তিতে। কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক বা সামাজিক সুবিধার জন্য “বাংলাদেশি” তকমা দেওয়া চলবে না।
আমরা সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিকের কাছে সংযম ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানাচ্ছি। বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন কুৎসা, বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক বিভাজন কিংবা নাগরিক-পরিচয় নিয়ে নির্বিচার প্রচারের পরিবেশ তৈরি না হয়।
নাগরিক অধিকার রক্ষা সমিতি, আসাম
সভাপতি: নৃপেন্দ্র চন্দ্র সাহা, তেজপুর
উপদেষ্টা: তপোধীর ভট্টাচার্য, প্রাক্তন উপাচার্য, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, শিলচর
সচিব প্রধান: সাধন পুরকায়স্থ, শিলচর
সাধারণ সম্পাদক: বিধায়ক দাশ পুরকায়স্থ, চিরাঙ
সাধারণ সম্পাদক: কিশোর ভট্টাচার্য, শিলচর
সাধারণ সম্পাদক: সমীরণ চৌধুরী, শিলচর
সাধারণ সম্পাদক: শেখর দে, গুয়াহাটি
সাধারণ সম্পাদক: চন্দন মজুমদার, ডিবরুগড়
কার্যকরী সভাপতি: কমল দত্ত, হোজাই
অধ্যাপক: তাইজ উদ্দিন, বরপেটা
আইনজীবী: সহদেব দাশ, গুয়াহাটি
সহসভাপতি: নিবাস দাশ, গুয়াহাটি
সদস্য: রঞ্জন পাল, লামডিঙ
আইনজীবী: নজরুল ইসলাম, গোয়ালপাড়া
আইনজীবী: নজরুল হক মাজার ভূঁইয়া, গুয়াহাটি
আইনজীবী: জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, করিমগঞ্জ
আইনজীবী: বিনোদলাল চক্রবর্তী, করিমগঞ্জ
আইনজীবী: রুখন উদ্দিন, হাইলাকানদী
সদস্য: মাধবী শর্মা, হাইলাকানদী
অধ্যাপক: নিরঞ্জন দত্ত, শিলচর
সদস্য: মধুসূদন কর, শিলচর
সহ অন্যান্য পদাধিকারীবৃন্দ