ASSAM
গতিশীল ভাবধারা আর থামবেনা...
একটা সময় ছিল প্রত্যেকটি ঋতুর পৃথক-পৃথক আমেজ এবং বৈশিষ্ট্য সময়োপযোগী থাকতো। শীতে শীতের সকালে স্বর্ণালী রোদ্দুর, শিশির ভেজা দুর্বাঘাসে দেখা যেত যাতে শিশুমন উদ্বলিত হয়ে উঠত আজ আর সেই দিন কফি হাউসের মান্না দে’র কণ্ঠে যে গান শিউরে উঠা অর্থাৎ ‘আজ আর নেই’ সেই ধরনের ঋতুরাজের চোখধাঁধানো এবং কোকিলের ডাক আজ ইতিহাসের পাতায় বলা চলে। এদিকে প্রযুক্তির দৌড়ে অনেক কিছুই হচ্ছে যেসকল লোকে পুকুর খনন করে সারাদিন শেষে কিছু অর্জিত ধন বাড়ি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বাজার ব্যাগ সহ বাড়িতে ফিরতেন সেও আজ গল্পগুচ্ছে। ঐসব কাজের দৌড় টেনে নিল পলকে ড্রোজার-জেসিবি। এবার আরও উন্নতির ধাপ এল এ.আই, সে কি করছে! আরও কয়েকধাপ এগিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক অনেক কাজ করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন এবং আগামীদিনে এই দৌড় ফুটবল মাঠের স্পিড বা ক্রিকেটের সৌরভ গাঙ্গুলির ছয় হাঁকানোর সেই দিনটাকেও আর দেখতে দিল না। মনে হয় এমন একটা দিন আসছে যেখানে মানুষই কিন্তু এই যন্ত্রাংশ দ্বারা কাজের দিককে সুনিশ্চিত করল আর এই মানুষই ঐ কাজের দৌড়কে এগিয়ে দিয়ে নিজেই পিছিয়ে যাবে, শেষ পর্যন্ত দেওয়ালে পিঠ ঠেকানোই শেষ ভরসা হবে এমনটা দূরদর্শী চিন্তাশক্তি লোকেদের বন্যার মত বা বিদ্যুতের বেগের মত বক্তব্য এই সময়ে দিয়ে বেড়াচ্ছে সুতরাং মানুষের জন্য যে কিছুই অসাধ্য নয় তা বারবার প্রমাণিত হয়ে চলেছে। একসময় লোকেরা বলত, ভালবাসার কথা, শ্রদ্ধার কথা, স্মৃতির রোমন্থনের কথা, ব্যবহার প্রয়োগের কথা, পাশের বাড়ির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে পাড়া এবং গ্রাম তথা রাজ্য এবং দেশ সর্বোপরি বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া এক অনন্য পথচলা। এসকলই কিন্তু হয়তো বা কবির কলমে বা ভাবিত মনে এখনও শোভা পেতে পারে কিন্তু বাস্তব হল যে, মানুষের অবস্থান আজ গভীর প্রশ্নচিহ্নে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা যেসকল গবেষণা করে থাকেন, তাঁরা কিন্তু প্রথমে মানুষ দিয়ে তা আবিষ্কার করেননা, পশু-পক্ষী থেকে শুরু করে গাছপালা ইত্যাদির মধ্যে তাঁদের গবেষণার দিকগুলো থেকে থাকে। আসুন আমরা জয়গান গাই, কিন্তু কোন আসরে?