ASSAM
নেতাজী ও স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙচুরের প্রতিবাদে কলকাতার মেঘালয় ভবনে ‘আমরা বাঙালী’-র বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি
কলকাতা, ২৫ আগস্ট ২০২৬:
শিলঙের আর.আর. কলোনিতে দেশনায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুর ও অবমাননা এবং বিশ্ববরেণ্য মনীষী স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির সুরক্ষা-আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের প্রতিবাদে আজ কলকাতার মেঘালয় ভবনে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন ও স্মারকলিপি প্রদান করল ‘আমরা বাঙালী’।
দলের কেন্দ্রীয় সচিব জ্যোতিবিকাশ সিনহা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সচিব অনিতা চন্দ, কেন্দ্রীয় প্রকাশন সচিব প্রণতি পাল এবং বাঙালী মহিলা সমাজের নেত্রী গোপা শীলের প্রতিনিধি দল মেঘালয় ভবনে উপস্থিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের মাধ্যমে মেঘালয়ের মাননীয় রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সচিব জ্যোতিবিকাশ সিনহা ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস বলেন, শিলঙের আর.আর. কলোনিতে একটি র্যালির সময় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুর ও অবমাননার যে অভিযোগ ও দৃশ্য সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে, তা শুধু নিন্দনীয় নয়—এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, জাতীয় মর্যাদা এবং কোটি কোটি ভারতবাসীর আবেগের প্রতি চরম অবমাননা।
তাঁরা বলেন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু কোনও বিশেষ জাতি, ভাষা, সম্প্রদায় বা ভূখণ্ডের একক সম্পত্তি নন। তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করা এক মহান বিপ্লবী, বাঙালীর গর্ব এবং সমগ্র ভারতবাসীর শ্রদ্ধার প্রতীক। তাঁর মূর্তিতে আঘাত মানে কেবল একটি মূর্তির উপর আঘাত নয়—এটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকেই অসম্মান করার শামিল।
‘আমরা বাঙালী’-র নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দাবি আদায়ের নামে জাতীয় বীর ও মনীষীদের মূর্তি ভাঙচুর কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। মতপ্রকাশ ও আন্দোলনের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত; কিন্তু সেই অধিকারের নামে জনসম্পত্তি, ঐতিহাসিক স্মারক কিংবা জাতীয় মনীষীদের মর্যাদা নষ্ট করার অধিকার কারও নেই।
একই আর.আর. কলোনিতে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিকে ঘিরে সুরক্ষা-আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়। স্বামী বিবেকানন্দ কেবল বাঙালীর নন—তিনি ভারতীয় নবজাগরণ, মানবতাবাদ, জাতীয় চেতনা ও যুবসমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেরণার উৎস। শিলঙের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক সম্পর্কও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
‘আমরা বাঙালী’ স্পষ্ট করে জানায়—আমরা কোনও জাতি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নই। খাসি সমাজের ন্যায্য দাবি থাকলে তা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথে উত্থাপিত হোক। কিন্তু কোনও আন্দোলনের আড়ালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বা স্বামী বিবেকানন্দের মতো সর্বজনশ্রদ্ধেয় মনীষীদের অপমান করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।
‘আমরা বাঙালী’-র প্রধান দাবি
১. নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগে অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।
২. ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির সুরক্ষা-আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও একই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
৪. শিলঙের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত জাতীয় বীর ও মনীষীদের মূর্তি ও স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তায় স্থায়ী ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. ক্ষতিগ্রস্ত নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি অবিলম্বে পুনঃস্থাপন করতে হবে এবং ভবিষ্যতে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. রাজনৈতিক, সামাজিক বা জাতিগত আন্দোলনের সময় জাতীয় বীর ও মনীষীদের স্মৃতিচিহ্নে হামলা ও অবমাননা প্রতিরোধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
‘আমরা বাঙালী’-র পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় বীর ও মনীষীদের মূর্তি ভাঙচুরের রাজনীতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন যদি এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর অবমাননা ও অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মেঘালয়ের মাননীয় রাজ্যপালের কাছে সংগঠনের আবেদন, বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে মেঘালয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও সুপারিশ প্রদান করা হোক।
এদিনের কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অরূপ মজুমদার, জেলা কমিটির পক্ষে শুভজিৎ পাল, দেবাশীষ বিশ্বাস, মিন্টু বিশ্বাস, সুনিতা শীল, প্রতিমা দাশ, সুবোধ কর-সহ ‘আমরা বাঙালী’-র অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিবেদক—
উজ্জ্বল ঘোষ
কেন্দ্রীয় প্রচার সচিব, আমরা বাঙালী
২নং বল্লভ স্ট্রীট, কলকাতা-০৪
শিলঙের আর.আর. কলোনিতে দেশনায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুর ও অবমাননা এবং বিশ্ববরেণ্য মনীষী স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির সুরক্ষা-আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের প্রতিবাদে আজ কলকাতার মেঘালয় ভবনে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন ও স্মারকলিপি প্রদান করল ‘আমরা বাঙালী’।
দলের কেন্দ্রীয় সচিব জ্যোতিবিকাশ সিনহা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সচিব অনিতা চন্দ, কেন্দ্রীয় প্রকাশন সচিব প্রণতি পাল এবং বাঙালী মহিলা সমাজের নেত্রী গোপা শীলের প্রতিনিধি দল মেঘালয় ভবনে উপস্থিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের মাধ্যমে মেঘালয়ের মাননীয় রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সচিব জ্যোতিবিকাশ সিনহা ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস বলেন, শিলঙের আর.আর. কলোনিতে একটি র্যালির সময় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুর ও অবমাননার যে অভিযোগ ও দৃশ্য সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে, তা শুধু নিন্দনীয় নয়—এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, জাতীয় মর্যাদা এবং কোটি কোটি ভারতবাসীর আবেগের প্রতি চরম অবমাননা।
তাঁরা বলেন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু কোনও বিশেষ জাতি, ভাষা, সম্প্রদায় বা ভূখণ্ডের একক সম্পত্তি নন। তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করা এক মহান বিপ্লবী, বাঙালীর গর্ব এবং সমগ্র ভারতবাসীর শ্রদ্ধার প্রতীক। তাঁর মূর্তিতে আঘাত মানে কেবল একটি মূর্তির উপর আঘাত নয়—এটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকেই অসম্মান করার শামিল।
‘আমরা বাঙালী’-র নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দাবি আদায়ের নামে জাতীয় বীর ও মনীষীদের মূর্তি ভাঙচুর কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। মতপ্রকাশ ও আন্দোলনের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত; কিন্তু সেই অধিকারের নামে জনসম্পত্তি, ঐতিহাসিক স্মারক কিংবা জাতীয় মনীষীদের মর্যাদা নষ্ট করার অধিকার কারও নেই।
একই আর.আর. কলোনিতে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিকে ঘিরে সুরক্ষা-আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়। স্বামী বিবেকানন্দ কেবল বাঙালীর নন—তিনি ভারতীয় নবজাগরণ, মানবতাবাদ, জাতীয় চেতনা ও যুবসমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেরণার উৎস। শিলঙের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক সম্পর্কও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
‘আমরা বাঙালী’ স্পষ্ট করে জানায়—আমরা কোনও জাতি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নই। খাসি সমাজের ন্যায্য দাবি থাকলে তা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথে উত্থাপিত হোক। কিন্তু কোনও আন্দোলনের আড়ালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বা স্বামী বিবেকানন্দের মতো সর্বজনশ্রদ্ধেয় মনীষীদের অপমান করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।
‘আমরা বাঙালী’-র প্রধান দাবি
১. নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগে অবিলম্বে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।
২. ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির সুরক্ষা-আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও একই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
৪. শিলঙের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত জাতীয় বীর ও মনীষীদের মূর্তি ও স্মৃতিসৌধের নিরাপত্তায় স্থায়ী ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. ক্ষতিগ্রস্ত নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি অবিলম্বে পুনঃস্থাপন করতে হবে এবং ভবিষ্যতে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. রাজনৈতিক, সামাজিক বা জাতিগত আন্দোলনের সময় জাতীয় বীর ও মনীষীদের স্মৃতিচিহ্নে হামলা ও অবমাননা প্রতিরোধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
‘আমরা বাঙালী’-র পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় বীর ও মনীষীদের মূর্তি ভাঙচুরের রাজনীতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন যদি এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর অবমাননা ও অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মেঘালয়ের মাননীয় রাজ্যপালের কাছে সংগঠনের আবেদন, বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে মেঘালয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও সুপারিশ প্রদান করা হোক।
এদিনের কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অরূপ মজুমদার, জেলা কমিটির পক্ষে শুভজিৎ পাল, দেবাশীষ বিশ্বাস, মিন্টু বিশ্বাস, সুনিতা শীল, প্রতিমা দাশ, সুবোধ কর-সহ ‘আমরা বাঙালী’-র অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিবেদক—
উজ্জ্বল ঘোষ
কেন্দ্রীয় প্রচার সচিব, আমরা বাঙালী
২নং বল্লভ স্ট্রীট, কলকাতা-০৪