ASSAM
কাছাড়ে মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কল্যাণমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনা করলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো;
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো বুধবার শিলচরের জেলা শাসকের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এক বিস্তারিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং আইনি সুরক্ষার বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করেন।
বুধবার কাছাড়ে এসে পৌঁছনো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং তৃণমূল স্তরের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনায় বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা কতটা মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী ও অংশীজনদের স্বার্থে প্রাসঙ্গিক আইনি বিধান কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাও খতিয়ে দেখা হয়।
বৈঠকে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের অধিকার, শিশুদের অধিকার ও কিশোর বিচার ব্যবস্থা, মানব পাচার, প্রবীণ ও বয়স্ক নাগরিকদের অধিকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলির কার্যক্রম, ক্রীড়া ও মানবাধিকার, যুব বিষয়ক কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক, দার্শনিক ও শিল্পীসত্তার প্রকাশের অধিকার এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত উপাদান বা সামগ্রী (সিএসএএম)-সহ বিস্তৃত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা স্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলির আধিকারিকরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যের সামনে বিভিন্ন নথি, তথ্য, পরিসংখ্যান, অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দলিল উপস্থাপন করেন। এই পর্যালোচনায় কল্যাণমূলক পরিষেবা প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, জীবিকা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের দুর্বল অংশের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন দপ্তর অংশগ্রহণ করে।
কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা, জাতীয় শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ ডিজিটাল সাক্ষরতা অভিযান, পিএম বিশ্বকর্মা, দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীণ কৌশল্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন এবং নমস্তে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হয়।
শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় মিশন বাৎসল্য, সমন্বিত শিশু উন্নয়ন পরিষেবা ও অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা, শিশুদের জন্য পিএম কেয়ার্স, কিশোরীদের জন্য প্রকল্প, পিএম পোষণ, সমগ্র শিক্ষা, বৃত্তি ও হোস্টেল সুবিধা, রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম এবং অন্যান্য প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। কিশোর বিচার আইন (শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা), ২০১৫, যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইন, ২০১২, শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯, বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনি সুরক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে কিশোর বিচার বোর্ড এবং শিশু কল্যাণ কমিটির কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মানব পাচার প্রতিরোধ, পুনর্বাসন এবং আক্রান্তদের সহায়তার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করেন। উজ্জ্বলা, স্বধার গৃহ, নির্ভয়া তহবিলের প্রকল্প এবং কেন্দ্রীয় ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ তহবিলের সহায়তা-সহ প্রযোজ্য আইনি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণও পর্যালোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। আধিকারিকরা জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় বয়ঃশ্রী যোজনা, অটল পেনশন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। আলোচনাগুলি পিতা-মাতা ও প্রবীণ নাগরিকদের রক্ষণাবেক্ষণ ও কল্যাণ আইন, ২০০৭ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিককে নির্দেশ দেন, বৃদ্ধাশ্রম ও জেলে বসবাসকারী ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রত্যেক ব্যক্তিকে যাতে আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে। এর জন্য আধার কার্ড তৈরি করাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও তিনি নির্দেশ দেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গৃহীত ব্যবস্থাগুলিও পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে দিব্যাঙ্গজন কৌশল যোজনা, সুগম্য ভারত অভিযান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জাম ও উপকরণ ক্রয়ের জন্য সহায়তা, নিরাময়া স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প, ইউনিক ডিসঅ্যাবিলিটি আইডি বা অনন্য প্রতিবন্ধিতা পরিচয়পত্র প্রকল্প এবং দীনদয়াল প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আইন, ২০১৬ এবং অন্যান্য আইনি বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে আধিকারিকরা এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলির কার্যক্রমও পর্যালোচনার আওতায় আসে। রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান, স্বামিত্ব এবং ই-পঞ্চায়েত মিশন মোড প্রকল্পের পাশাপাশি শহরাঞ্চলের স্থানীয় সংস্থাগুলির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। শিলচর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের শীর্ষ আধিকারিক এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট নাগরিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরাও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত মনোজ্যোতি কুটুম, এ.সি.এস., এবং জাগৃতি কালওয়ার, এ.সি.এস., সহকারী আয়ুক্ত তথা ভারপ্রাপ্ত উপ সঞ্চালক তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর, মাসি টোপনো, এ.সি.এস., সহকারী আয়ুক্ত মানস প্রতিম বনজং, এ.সি.এস., সহকারী আয়ুক্ত, সীমান্ত বসুমাতারী, এ.সি.এস., দীক্ষা সরকার, এ.সি.এস. এবং কাছাড় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কিশোর বিচার বোর্ড, শিশু কল্যাণ কমিটি, জেল বিভাগ, জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষা বিভাগ, মৎস্য ও পশুপালন বিভাগ, সমবায় বিভাগ, নগর স্থানীয় সংস্থা, পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগ, সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগ, জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন এবং জাতীয় নগর জীবিকা মিশন-সহ অন্যান্য বিভাগের আধিকারিকরাও এই পর্যালোচনা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের শেষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো তাঁর সফরের সময় পর্যালোচনা করা কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সফল বাস্তবায়নের জন্য কাছাড় জেলা প্রশাসনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির নির্ধারিত সুবিধাভোগীদের কাছে প্রকল্পগুলির সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তারও তিনি প্রশংসা করেন।
পর্যালোচনা বৈঠকের পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য জেলা শাসকের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি জেলায় তাঁর সফরের সময় পর্যালোচনা করা বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।
পি.ডি./১৯ আগস্ট, ২০২৬
বুধবার কাছাড়ে এসে পৌঁছনো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং তৃণমূল স্তরের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনায় বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা কতটা মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী ও অংশীজনদের স্বার্থে প্রাসঙ্গিক আইনি বিধান কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাও খতিয়ে দেখা হয়।
বৈঠকে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের অধিকার, শিশুদের অধিকার ও কিশোর বিচার ব্যবস্থা, মানব পাচার, প্রবীণ ও বয়স্ক নাগরিকদের অধিকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলির কার্যক্রম, ক্রীড়া ও মানবাধিকার, যুব বিষয়ক কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক, দার্শনিক ও শিল্পীসত্তার প্রকাশের অধিকার এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত উপাদান বা সামগ্রী (সিএসএএম)-সহ বিস্তৃত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা স্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলির আধিকারিকরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যের সামনে বিভিন্ন নথি, তথ্য, পরিসংখ্যান, অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দলিল উপস্থাপন করেন। এই পর্যালোচনায় কল্যাণমূলক পরিষেবা প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, জীবিকা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের দুর্বল অংশের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন দপ্তর অংশগ্রহণ করে।
কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা, জাতীয় শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ ডিজিটাল সাক্ষরতা অভিযান, পিএম বিশ্বকর্মা, দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীণ কৌশল্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন এবং নমস্তে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হয়।
শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় মিশন বাৎসল্য, সমন্বিত শিশু উন্নয়ন পরিষেবা ও অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা, শিশুদের জন্য পিএম কেয়ার্স, কিশোরীদের জন্য প্রকল্প, পিএম পোষণ, সমগ্র শিক্ষা, বৃত্তি ও হোস্টেল সুবিধা, রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম এবং অন্যান্য প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। কিশোর বিচার আইন (শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা), ২০১৫, যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইন, ২০১২, শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯, বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনি সুরক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে কিশোর বিচার বোর্ড এবং শিশু কল্যাণ কমিটির কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মানব পাচার প্রতিরোধ, পুনর্বাসন এবং আক্রান্তদের সহায়তার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করেন। উজ্জ্বলা, স্বধার গৃহ, নির্ভয়া তহবিলের প্রকল্প এবং কেন্দ্রীয় ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ তহবিলের সহায়তা-সহ প্রযোজ্য আইনি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণও পর্যালোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। আধিকারিকরা জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় বয়ঃশ্রী যোজনা, অটল পেনশন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। আলোচনাগুলি পিতা-মাতা ও প্রবীণ নাগরিকদের রক্ষণাবেক্ষণ ও কল্যাণ আইন, ২০০৭ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিককে নির্দেশ দেন, বৃদ্ধাশ্রম ও জেলে বসবাসকারী ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রত্যেক ব্যক্তিকে যাতে আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধা দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে। এর জন্য আধার কার্ড তৈরি করাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও তিনি নির্দেশ দেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গৃহীত ব্যবস্থাগুলিও পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে দিব্যাঙ্গজন কৌশল যোজনা, সুগম্য ভারত অভিযান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জাম ও উপকরণ ক্রয়ের জন্য সহায়তা, নিরাময়া স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প, ইউনিক ডিসঅ্যাবিলিটি আইডি বা অনন্য প্রতিবন্ধিতা পরিচয়পত্র প্রকল্প এবং দীনদয়াল প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আইন, ২০১৬ এবং অন্যান্য আইনি বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে আধিকারিকরা এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলির কার্যক্রমও পর্যালোচনার আওতায় আসে। রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান, স্বামিত্ব এবং ই-পঞ্চায়েত মিশন মোড প্রকল্পের পাশাপাশি শহরাঞ্চলের স্থানীয় সংস্থাগুলির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। শিলচর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের শীর্ষ আধিকারিক এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট নাগরিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরাও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত মনোজ্যোতি কুটুম, এ.সি.এস., এবং জাগৃতি কালওয়ার, এ.সি.এস., সহকারী আয়ুক্ত তথা ভারপ্রাপ্ত উপ সঞ্চালক তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর, মাসি টোপনো, এ.সি.এস., সহকারী আয়ুক্ত মানস প্রতিম বনজং, এ.সি.এস., সহকারী আয়ুক্ত, সীমান্ত বসুমাতারী, এ.সি.এস., দীক্ষা সরকার, এ.সি.এস. এবং কাছাড় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কিশোর বিচার বোর্ড, শিশু কল্যাণ কমিটি, জেল বিভাগ, জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষা বিভাগ, মৎস্য ও পশুপালন বিভাগ, সমবায় বিভাগ, নগর স্থানীয় সংস্থা, পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগ, সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগ, জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন এবং জাতীয় নগর জীবিকা মিশন-সহ অন্যান্য বিভাগের আধিকারিকরাও এই পর্যালোচনা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের শেষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো তাঁর সফরের সময় পর্যালোচনা করা কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সফল বাস্তবায়নের জন্য কাছাড় জেলা প্রশাসনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির নির্ধারিত সুবিধাভোগীদের কাছে প্রকল্পগুলির সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তারও তিনি প্রশংসা করেন।
পর্যালোচনা বৈঠকের পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য জেলা শাসকের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি জেলায় তাঁর সফরের সময় পর্যালোচনা করা বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।
পি.ডি./১৯ আগস্ট, ২০২৬