ASSAM
জনগণনায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর ‘দ্বৈত দায়িত্ব’, প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে সরব সিআরপিসি
মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে জনগণনার মাঠপর্যায়ের কাজ। দেশের এই বৃহৎ প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞে এনুমারেটর ও সুপারভাইজার হিসেবে মূলত শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ শুরুর মুখেই তাঁদের একাংশের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি। স্কুলের নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি জনগণনার কাজ সামলানোর নির্দেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে গোটা প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ‘সিআরপিসি’-র অসম রাজ্য সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থ।
এক বিবৃতিতে পুরকায়স্থের অভিযোগ, এক দিকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নির্ধারিত সময়ে স্কুলে গিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে, অন্য দিকে স্কুলের দায়িত্ব শেষ করেই তাঁদের জনগণনার কাজে বেরোতে বলা হচ্ছে। ফলে বহু ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কাজ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তাঁর দাবি, কোনও কোনও শিক্ষক-শিক্ষিকার স্কুল থেকে জনগণনার জন্য নির্ধারিত এলাকা ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে। দুপুরে স্কুলের কাজ শেষ করে সেই এলাকায় পৌঁছতেই দিনের অনেকটা সময় কেটে যাচ্ছে। তার পর অপরিচিত এলাকা বা প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা কতটা বাস্তবসম্মত, সেই প্রশ্নই উঠছে।
পুরকায়স্থ বলেন, ‘‘শিক্ষকদের একসঙ্গে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে কোনও কাজই সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়।’’ তাঁর অভিযোগ, শিলচর পুর নিগম এলাকাতেও জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের একাংশ চরম অব্যবস্থার মুখে পড়েছেন। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনার অভাব, অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দিনের শেষভাগে কোনও মহিলাকে একা অপরিচিত বা অজানা এলাকায় বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কাজে পাঠানো হলে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচিতে মাঠকর্মীদের নিরাপত্তা ও কাজের বাস্তব পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল বলে তাঁর মত।
‘শিক্ষকদেরই কেন বার বার?’
জনগণনা থেকে ভোট, এমনকি কোভিড-পর্বের বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি—প্রশাসনিক কাজে বার বার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যবহার করা হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন পুরকায়স্থ। তাঁর প্রস্তাব, জনগণনার মতো বাড়ি-বাড়ি তথ্য সংগ্রহের কাজে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, এনজিও এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদেরও যুক্ত করা যেতে পারে।
বরাক উপত্যকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করা বহু ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। আর্থ-সামাজিক সমীক্ষার সঙ্গে তাঁদের পড়াশোনার সরাসরি যোগ রয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এনুমারেটর হিসেবে কাজে লাগালে এক দিকে জনগণনার কাজের জন্য অতিরিক্ত মানবসম্পদ পাওয়া যেত, অন্য দিকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারতেন তরুণ-তরুণীরা।
’
পুরকায়স্থের মতে, বর্তমান প্রজন্মের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা প্রযুক্তি ব্যবহারে যথেষ্ট দক্ষ। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, গুগল ম্যাপ কিংবা জিপিএস ব্যবহার—এই ধরনের কাজ তাঁদের কাছে তুলনামূলক সহজ। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর জনগণনা প্রক্রিয়ায় তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগানো হলে মাঠপর্যায়ের কাজ আরও দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে।
তাঁর প্রস্তাব, পড়ুয়াদের এনুমারেটর হিসেবে কাজে লাগিয়ে তাঁদের উপর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সীমিত সংখ্যক শিক্ষককে সুপারভাইজারের দায়িত্ব দেওয়া যেত। এতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে সরাসরি মাঠের কাজে নামাতে হত না এবং স্কুলের স্বাভাবিক পঠন-পাঠনও অনেকটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হত।
‘নিজ এলাকার দায়িত্ব দিলে কাজ সহজ হত’
জনগণনার কাজে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পক্ষেও সওয়াল করেছেন পুরকায়স্থ। তাঁর মতে, যে যার পরিচিত এলাকায় দায়িত্ব পেলে তথ্য সংগ্রহের কাজ অনেক সহজ হয়। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, বাড়ি চেনা এবং এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা থাকায় সময়ও বাঁচে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেও তাঁদের নিজ নিজ স্কুলের আশপাশের এলাকায় জনগণনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
একই সঙ্গে জনগণনার কাজে নির্দিষ্ট পারিতোষিক দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করলে তাঁদের জন্য তা অভিজ্…
এক বিবৃতিতে পুরকায়স্থের অভিযোগ, এক দিকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নির্ধারিত সময়ে স্কুলে গিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে, অন্য দিকে স্কুলের দায়িত্ব শেষ করেই তাঁদের জনগণনার কাজে বেরোতে বলা হচ্ছে। ফলে বহু ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কাজ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তাঁর দাবি, কোনও কোনও শিক্ষক-শিক্ষিকার স্কুল থেকে জনগণনার জন্য নির্ধারিত এলাকা ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে। দুপুরে স্কুলের কাজ শেষ করে সেই এলাকায় পৌঁছতেই দিনের অনেকটা সময় কেটে যাচ্ছে। তার পর অপরিচিত এলাকা বা প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা কতটা বাস্তবসম্মত, সেই প্রশ্নই উঠছে।
পুরকায়স্থ বলেন, ‘‘শিক্ষকদের একসঙ্গে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে কোনও কাজই সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়।’’ তাঁর অভিযোগ, শিলচর পুর নিগম এলাকাতেও জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের একাংশ চরম অব্যবস্থার মুখে পড়েছেন। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনার অভাব, অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দিনের শেষভাগে কোনও মহিলাকে একা অপরিচিত বা অজানা এলাকায় বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কাজে পাঠানো হলে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচিতে মাঠকর্মীদের নিরাপত্তা ও কাজের বাস্তব পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল বলে তাঁর মত।
‘শিক্ষকদেরই কেন বার বার?’
জনগণনা থেকে ভোট, এমনকি কোভিড-পর্বের বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি—প্রশাসনিক কাজে বার বার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যবহার করা হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন পুরকায়স্থ। তাঁর প্রস্তাব, জনগণনার মতো বাড়ি-বাড়ি তথ্য সংগ্রহের কাজে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, এনজিও এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদেরও যুক্ত করা যেতে পারে।
বরাক উপত্যকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করা বহু ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। আর্থ-সামাজিক সমীক্ষার সঙ্গে তাঁদের পড়াশোনার সরাসরি যোগ রয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এনুমারেটর হিসেবে কাজে লাগালে এক দিকে জনগণনার কাজের জন্য অতিরিক্ত মানবসম্পদ পাওয়া যেত, অন্য দিকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারতেন তরুণ-তরুণীরা।
’
পুরকায়স্থের মতে, বর্তমান প্রজন্মের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা প্রযুক্তি ব্যবহারে যথেষ্ট দক্ষ। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, গুগল ম্যাপ কিংবা জিপিএস ব্যবহার—এই ধরনের কাজ তাঁদের কাছে তুলনামূলক সহজ। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর জনগণনা প্রক্রিয়ায় তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগানো হলে মাঠপর্যায়ের কাজ আরও দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে।
তাঁর প্রস্তাব, পড়ুয়াদের এনুমারেটর হিসেবে কাজে লাগিয়ে তাঁদের উপর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সীমিত সংখ্যক শিক্ষককে সুপারভাইজারের দায়িত্ব দেওয়া যেত। এতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে সরাসরি মাঠের কাজে নামাতে হত না এবং স্কুলের স্বাভাবিক পঠন-পাঠনও অনেকটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হত।
‘নিজ এলাকার দায়িত্ব দিলে কাজ সহজ হত’
জনগণনার কাজে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পক্ষেও সওয়াল করেছেন পুরকায়স্থ। তাঁর মতে, যে যার পরিচিত এলাকায় দায়িত্ব পেলে তথ্য সংগ্রহের কাজ অনেক সহজ হয়। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, বাড়ি চেনা এবং এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা থাকায় সময়ও বাঁচে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেও তাঁদের নিজ নিজ স্কুলের আশপাশের এলাকায় জনগণনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
একই সঙ্গে জনগণনার কাজে নির্দিষ্ট পারিতোষিক দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করলে তাঁদের জন্য তা অভিজ্…