ASSAM
মাটির গান প্রজন্ম পেরিয়ে হৃদয়ে পৌঁছতে পারে, দেখিয়ে গিয়েছেন কালিকাপ্রসাদ: অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা ;
--মাটির গান যে কেবল মাটির কাছেই আটকে থাকে না, প্রজন্ম পেরিয়ে তা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যেতে পারে নিজের সৃষ্টির মাধ্যমে সেই পথ দেখিয়ে গিয়েছিলেন কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তাঁর জন্মভূমি শিলচরে লোকসংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রয়াত শিল্পীকে স্মরণ করে এই কথাই বললেন কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা এ.সি.এস।
শুক্রবার, আসাম সরকারের সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগের উদ্যোগে এবং কাছাড় জেলা প্রশাসনের ব্যাবস্থাপনায় ও শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের সক্রিয় সহযোগিতায়, পার্করোডে অবস্থিত শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত হয় ‘লোকসংহতি দিবস’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা বলেন, “কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য দেখিয়ে গিয়েছেন, মাটির গান কী ভাবে বহুদূর ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের হৃদয় স্পর্শ করতে পারে।”
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিলচরে জন্মেছিলেন কালিকাপ্রসাদ। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে ‘লোকসংহতি দিবস’ পালিত হয়। লোকসঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ, গবেষণা এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারাকে সংরক্ষণ ও জনপ্রিয় করে তোলার প্রয়াসের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
অতিরিক্ত আয়ুক্ত বরা বলেন, কালিকাপ্রসাদ শুধু গায়ক ছিলেন না। তিনি ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী, গবেষক, লোকসংস্কৃতির অনুরাগী এবং সমৃদ্ধ মৌখিক ঐতিহ্যের একনিষ্ঠ দূত। শিলচর থেকে তাঁর যাত্রা জাতীয় মঞ্চে পৌঁছলেও নিজের মাটি, সংস্কৃতি এবং সঙ্গীতের শিকড়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।
অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা বলেন, কালিকাপ্রসাদ লোকসঙ্গীতকে তিনি কখনও শুধু অতীতের স্মৃতি হিসেবে দেখেননি। মানুষের আবেগ, সংগ্রাম, বিশ্বাস এবং দৈনন্দিন জীবনের জীবন্ত প্রকাশ হিসেবেই তিনি লোকসঙ্গীতকে সামনে এনেছিলেন। তাঁর হাত ধরে বহু ঐতিহ্যবাহী গান বৃহত্তর শ্রোতৃসমাজে পৌঁছেছিল, অথচ সেই গানগুলির সঙ্গে যুক্ত মানুষ ও মাটির সম্পর্কও অটুট ছিল।
২০১৭ সালের ৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে এক পথ দুর্ঘটনায় মাত্র ৪৬ বছর বয়সে কালিকাপ্রসাদের অকালমৃত্যুর কথাও স্মরণ করেন অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা । তিনি বলেন, শিল্পী শারীরিক ভাবে চলে গেলেও তাঁর গান ও গবেষণার মধ্য দিয়ে তিনি আজও মানুষের মধ্যে বেঁচে রয়েছেন।
‘লোকসংহতি’ অর্থাৎ সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মিলন কালিকাপ্রসাদের কাজের মধ্যেই গভীর ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত । তাঁর সঙ্গীত ভাষা, অঞ্চল এবং সম্প্রদায়ের সীমানা অতিক্রম করে মানুষের আবেগের অভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন মানুষকে কাছাকাছি এনেছিল।
জন্মভূমি শিলচরে এই অনুষ্ঠান শুধু প্রয়াত শিল্পীকে স্মরণ করার উপলক্ষ নয়, নতুন প্রজন্মকে নিজেদের লোকঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলে উল্লেখ করেন ডেভিড কুমার বরা। তিনি বলেন, “কালিকাপ্রসাদকে শুধু ফুল ও কথায় স্মরণ নয়, তিনি যে লোকঐতিহ্যকে ভালবেসেছিলেন, গবেষণা করেছিলেন এবং সারা জীবন প্রচার করেছিলেন, সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্য দিয়েই তাঁকে স্মরণ করা হোক।”
অনুষ্ঠানের শেষে লোক ও ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত সংরক্ষণ এবং প্রসারের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত শ্রী বরা।
এ দিন সকাল থেকেই কালিকাপ্রসাদের গানে মুখর হয়ে ওঠে শিলচর। কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর ভ্রাম্যমাণ মাইকযোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাজানো হয় প্রয়াত শিল্পীর অমর গান। সকাল থেকেই সেই সুরে যেন ফিরে আসে পরিচিত এক শিল্পীর স্মৃতি।
এদিন সন্ধ্যে, ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় ঠিক ছয়টায় শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা, এসিএস, সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন আধিকারিক স্নেহাংশু শেখর রায়, শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নন্দিনী চক্রবর্তী, পরিচালন সমিতির সহ-সভাপতি সমর বিজয় চক্রবর্তী, কমলেশ ভট্টাচার্য, কানাই দাস এবং শিক্ষক ভাস্কর দাস। প্রয়াত…শিল্পীকে স্মরণ করার উপলক্ষ নয়, নতুন প্রজন্মকে নিজেদের লোকঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলে উল্লেখ করেন ডেভিড কুমার বরা। তিনি বলেন, “কালিকাপ্রসাদকে শুধু ফুল ও কথায় স্মরণ নয়, তিনি যে লোকঐতিহ্যকে ভালবেসেছিলেন, গবেষণা করেছিলেন এবং সারা জীবন প্রচার করেছিলেন, সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্য দিয়েই তাঁকে স্মরণ করা হোক।”
অনুষ্ঠানের শেষে লোক ও ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত সংরক্ষণ এবং প্রসারের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত শ্রী বরা।
এ দিন সকাল থেকেই কালিকাপ্রসাদের গানে মুখর হয়ে ওঠে শিলচর। কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর ভ্রাম্যমাণ মাইকযোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাজানো হয় প্রয়াত শিল্পীর অমর গান। সকাল থেকেই সেই সুরে যেন ফিরে আসে পরিচিত এক শিল্পীর স্মৃতি।
এদিন সন্ধ্যে, ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় ঠিক ছয়টায় শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা, এসিএস, সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন আধিকারিক স্নেহাংশু শেখর রায়, শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নন্দিনী চক্রবর্তী, পরিচালন সমিতির সহ-সভাপতি সমর বিজয় চক্রবর্তী, কমলেশ ভট্টাচার্য, কানাই দাস এবং শিক্ষক ভাস্কর দাস। প্রয়াত শিল্পীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
কালিকাপ্রসাদের শিল্পীজীবনের নানা স্বীকৃতির কথাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সঙ্গীত সম্মান’ পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। পেয়েছিলেন ‘কালচারাল অ্যাম্বাসাডর অব নর্থ ইস্ট’ পুরস্কারও। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান মরণোত্তর স্বীকৃতি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কালিকাপ্রসাদের ভগ্নীপতি এবং অধরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমর বিজয় চক্রবর্তী শিলচর থেকে কলকাতা পর্যন্ত শিল্পীর সঙ্গীতযাত্রার কথা স্মরণ করেন। তাঁর কথায়, ‘দোহার’ দলকে সঙ্গে নিয়ে কালিকা প্রসাদ গ্রামের গান ও লোকসঙ্গীতের মাটির গন্ধকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
লোকঐতিহ্য সংরক্ষণে কালিকাপ্রসাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সমর বিজয় চক্রবর্তী বলেন, তিনি নিজের জীবন লোকঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা ও তা সংরক্ষণের কাজে উৎসর্গ করেছিলেন। বাংলা লোকসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার তাঁর নিরলস প্রয়াস সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নতুন মর্যাদা দিয়েছিল।
কালিকাপ্রসাদকে এক জন সাংস্কৃতিক জগতের একজন পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা লোকগানের অন্তর্নিহিত সত্তাকে নতুন ভাবে তুলে ধরে শিল্পী তার জন্য একটি নতুন পরিচয় তৈরি করেছিলেন। অসম ও বাংলার লোকঐতিহ্যের সঙ্গে বৃহত্তর বিশ্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন তিনি। লোকসঙ্গীত তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল সাংস্কৃতিক ঐক্য ও গর্বের ভাষা।
গ্রামীণ শিল্পীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন নিয়েও কালিকাপ্রসাদ সবসময় ভাবতেন বলে জানান সমর বিজয়। তাঁর মতে, লোকশিল্পীদের বৃহত্তর মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কালিকাপ্রসাদ বোঝাতে চেয়েছিলেন লোকশিল্পীরা শুধুমাত্র বিনোদনকারী নন, তাঁরা জ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক বাহক। তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং আর্থিক নিরাপত্তারও প্রয়োজন রয়েছে।
সমর বিজয় চক্রবর্তীর এদিনের বক্তব্যে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণেও কালিকাপ্রসাদের আগ্রহের কথা উঠে আসে অনুষ্ঠানে। পশ্চিমবঙ্গের সারিন্দা বাদক নিরঞ্জন হালদারের প্রসঙ্গ তুলে সমর বিজয় জানান, প্রায় বিলুপ্তির মুখে থাকা সারিন্দাকে সঙ্গীতের পরিসরে ফিরিয়ে আনতে কালিকা প্রসাদ হালদারকে ‘দোহার’ এর সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তাঁর হাত ধরে সেই ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রও দলের পরিবেশনায় জায়গা করে নেয়।
এর পর একে একে মঞ্চে উঠে আসে গান ও নৃত্য। শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা কালিকাপ্রসাদের লেখা ও সুরারোপিত গান নিয়ে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তাঁদের কণ্ঠে প্রয়াত শিল্পীর গান প্রেক্ষাগৃহে তৈরি করে আবেগঘন আবহ।
আমন্ত্রিত শিল্পী বিধান লস্কর, স্বস্তিক চক্রবর্তী এবং শান্তি কুমার ভট্টাচার্যের পাশাপাশি নবীন শিল্পী প্রিয়াঙ্কা দেব রায় একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। কীর্তনশিল্পী অজিত দেব উলুধ্বনির সঙ্গে কীর্তন পরিবেশন করলে প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ আরও আবেগময় হয়ে ওঠে।
শিল্পীর পরিবারের তরফ থেকেও এ দিন শ্রদ্ধা জানানো হয় ভিন্ন ভাবে। কালিকাপ্রসাদের ভ্রাতষ্পুত্র সৌমিত্র শঙ্কর চৌধুরী প্রয়াত শিল্পীর সঙ্গে যুক্ত দুটি ঐতিহ্যবাহী লোকগান ‘প্রভাত সময়ে সতীর অঙ্গিনা মাঝে’ এবং ‘হৃদ মাঝারে থাকব, যেতে দেব না’এর ভিত্তিতে একক নৃত্য পরিবেশন করেন। দর্শকদের উষ্ণ প্রশংসা পায় সেই পরিবেশনা।
শেষে শিলচরের বিশিষ্ট শিল্পীরা একসঙ্গে মঞ্চে উঠে কালিকাপ্রসাদের ‘আমি তোমারি তোমারি নাম গাই’ গানটি পরিবেশন করেন। সেই সমবেত সুরেই যেন শেষ হয় জন্মভূমিতে শিল্পীকে স্মরণের অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী এবং আকাশবাণী শিলচর কেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত ঘোষক মনোজ দেব ও শিক্ষক ভাস্কর দাস। তবলায় সত্যজিৎ শীল, দোতারায় নিতাই দাস, হারমোন…সন্দীপ ভট্টাচার্য এবং শ্রীখোল ও বাংলা ঢোলে ভাস্কর দাস বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন আধিকারিক স্নেহাংশু শেখর রায়, প্রয়াত শিল্পীর কনিষ্ঠা ভগিনী ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য সহ পরিবারের সদস্যরা, শিলচরের বিশিষ্ট সামাজিক তথা সাংস্কৃতিক সংগঠক ও আয়োজক, জয়দীপ চক্রবর্তী,সরকারি বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক, শিল্পী, পরিচালন সমিতির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং শিলচরের সঙ্গীতপ্রেমীরা।অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।
শুক্রবার, আসাম সরকারের সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগের উদ্যোগে এবং কাছাড় জেলা প্রশাসনের ব্যাবস্থাপনায় ও শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের সক্রিয় সহযোগিতায়, পার্করোডে অবস্থিত শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত হয় ‘লোকসংহতি দিবস’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা বলেন, “কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য দেখিয়ে গিয়েছেন, মাটির গান কী ভাবে বহুদূর ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের হৃদয় স্পর্শ করতে পারে।”
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিলচরে জন্মেছিলেন কালিকাপ্রসাদ। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে ‘লোকসংহতি দিবস’ পালিত হয়। লোকসঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ, গবেষণা এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারাকে সংরক্ষণ ও জনপ্রিয় করে তোলার প্রয়াসের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
অতিরিক্ত আয়ুক্ত বরা বলেন, কালিকাপ্রসাদ শুধু গায়ক ছিলেন না। তিনি ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী, গবেষক, লোকসংস্কৃতির অনুরাগী এবং সমৃদ্ধ মৌখিক ঐতিহ্যের একনিষ্ঠ দূত। শিলচর থেকে তাঁর যাত্রা জাতীয় মঞ্চে পৌঁছলেও নিজের মাটি, সংস্কৃতি এবং সঙ্গীতের শিকড়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।
অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা বলেন, কালিকাপ্রসাদ লোকসঙ্গীতকে তিনি কখনও শুধু অতীতের স্মৃতি হিসেবে দেখেননি। মানুষের আবেগ, সংগ্রাম, বিশ্বাস এবং দৈনন্দিন জীবনের জীবন্ত প্রকাশ হিসেবেই তিনি লোকসঙ্গীতকে সামনে এনেছিলেন। তাঁর হাত ধরে বহু ঐতিহ্যবাহী গান বৃহত্তর শ্রোতৃসমাজে পৌঁছেছিল, অথচ সেই গানগুলির সঙ্গে যুক্ত মানুষ ও মাটির সম্পর্কও অটুট ছিল।
২০১৭ সালের ৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে এক পথ দুর্ঘটনায় মাত্র ৪৬ বছর বয়সে কালিকাপ্রসাদের অকালমৃত্যুর কথাও স্মরণ করেন অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা । তিনি বলেন, শিল্পী শারীরিক ভাবে চলে গেলেও তাঁর গান ও গবেষণার মধ্য দিয়ে তিনি আজও মানুষের মধ্যে বেঁচে রয়েছেন।
‘লোকসংহতি’ অর্থাৎ সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মিলন কালিকাপ্রসাদের কাজের মধ্যেই গভীর ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত । তাঁর সঙ্গীত ভাষা, অঞ্চল এবং সম্প্রদায়ের সীমানা অতিক্রম করে মানুষের আবেগের অভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন মানুষকে কাছাকাছি এনেছিল।
জন্মভূমি শিলচরে এই অনুষ্ঠান শুধু প্রয়াত শিল্পীকে স্মরণ করার উপলক্ষ নয়, নতুন প্রজন্মকে নিজেদের লোকঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলে উল্লেখ করেন ডেভিড কুমার বরা। তিনি বলেন, “কালিকাপ্রসাদকে শুধু ফুল ও কথায় স্মরণ নয়, তিনি যে লোকঐতিহ্যকে ভালবেসেছিলেন, গবেষণা করেছিলেন এবং সারা জীবন প্রচার করেছিলেন, সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্য দিয়েই তাঁকে স্মরণ করা হোক।”
অনুষ্ঠানের শেষে লোক ও ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত সংরক্ষণ এবং প্রসারের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত শ্রী বরা।
এ দিন সকাল থেকেই কালিকাপ্রসাদের গানে মুখর হয়ে ওঠে শিলচর। কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর ভ্রাম্যমাণ মাইকযোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাজানো হয় প্রয়াত শিল্পীর অমর গান। সকাল থেকেই সেই সুরে যেন ফিরে আসে পরিচিত এক শিল্পীর স্মৃতি।
এদিন সন্ধ্যে, ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় ঠিক ছয়টায় শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা, এসিএস, সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন আধিকারিক স্নেহাংশু শেখর রায়, শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নন্দিনী চক্রবর্তী, পরিচালন সমিতির সহ-সভাপতি সমর বিজয় চক্রবর্তী, কমলেশ ভট্টাচার্য, কানাই দাস এবং শিক্ষক ভাস্কর দাস। প্রয়াত…শিল্পীকে স্মরণ করার উপলক্ষ নয়, নতুন প্রজন্মকে নিজেদের লোকঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলে উল্লেখ করেন ডেভিড কুমার বরা। তিনি বলেন, “কালিকাপ্রসাদকে শুধু ফুল ও কথায় স্মরণ নয়, তিনি যে লোকঐতিহ্যকে ভালবেসেছিলেন, গবেষণা করেছিলেন এবং সারা জীবন প্রচার করেছিলেন, সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্য দিয়েই তাঁকে স্মরণ করা হোক।”
অনুষ্ঠানের শেষে লোক ও ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত সংরক্ষণ এবং প্রসারের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন কাছাড়ের অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত শ্রী বরা।
এ দিন সকাল থেকেই কালিকাপ্রসাদের গানে মুখর হয়ে ওঠে শিলচর। কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর ভ্রাম্যমাণ মাইকযোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাজানো হয় প্রয়াত শিল্পীর অমর গান। সকাল থেকেই সেই সুরে যেন ফিরে আসে পরিচিত এক শিল্পীর স্মৃতি।
এদিন সন্ধ্যে, ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় ঠিক ছয়টায় শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ডেভিড কুমার বরা, এসিএস, সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন আধিকারিক স্নেহাংশু শেখর রায়, শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নন্দিনী চক্রবর্তী, পরিচালন সমিতির সহ-সভাপতি সমর বিজয় চক্রবর্তী, কমলেশ ভট্টাচার্য, কানাই দাস এবং শিক্ষক ভাস্কর দাস। প্রয়াত শিল্পীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
কালিকাপ্রসাদের শিল্পীজীবনের নানা স্বীকৃতির কথাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘সঙ্গীত সম্মান’ পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। পেয়েছিলেন ‘কালচারাল অ্যাম্বাসাডর অব নর্থ ইস্ট’ পুরস্কারও। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান মরণোত্তর স্বীকৃতি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কালিকাপ্রসাদের ভগ্নীপতি এবং অধরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমর বিজয় চক্রবর্তী শিলচর থেকে কলকাতা পর্যন্ত শিল্পীর সঙ্গীতযাত্রার কথা স্মরণ করেন। তাঁর কথায়, ‘দোহার’ দলকে সঙ্গে নিয়ে কালিকা প্রসাদ গ্রামের গান ও লোকসঙ্গীতের মাটির গন্ধকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
লোকঐতিহ্য সংরক্ষণে কালিকাপ্রসাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সমর বিজয় চক্রবর্তী বলেন, তিনি নিজের জীবন লোকঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা ও তা সংরক্ষণের কাজে উৎসর্গ করেছিলেন। বাংলা লোকসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার তাঁর নিরলস প্রয়াস সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নতুন মর্যাদা দিয়েছিল।
কালিকাপ্রসাদকে এক জন সাংস্কৃতিক জগতের একজন পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা লোকগানের অন্তর্নিহিত সত্তাকে নতুন ভাবে তুলে ধরে শিল্পী তার জন্য একটি নতুন পরিচয় তৈরি করেছিলেন। অসম ও বাংলার লোকঐতিহ্যের সঙ্গে বৃহত্তর বিশ্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন তিনি। লোকসঙ্গীত তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল সাংস্কৃতিক ঐক্য ও গর্বের ভাষা।
গ্রামীণ শিল্পীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন নিয়েও কালিকাপ্রসাদ সবসময় ভাবতেন বলে জানান সমর বিজয়। তাঁর মতে, লোকশিল্পীদের বৃহত্তর মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কালিকাপ্রসাদ বোঝাতে চেয়েছিলেন লোকশিল্পীরা শুধুমাত্র বিনোদনকারী নন, তাঁরা জ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক বাহক। তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং আর্থিক নিরাপত্তারও প্রয়োজন রয়েছে।
সমর বিজয় চক্রবর্তীর এদিনের বক্তব্যে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণেও কালিকাপ্রসাদের আগ্রহের কথা উঠে আসে অনুষ্ঠানে। পশ্চিমবঙ্গের সারিন্দা বাদক নিরঞ্জন হালদারের প্রসঙ্গ তুলে সমর বিজয় জানান, প্রায় বিলুপ্তির মুখে থাকা সারিন্দাকে সঙ্গীতের পরিসরে ফিরিয়ে আনতে কালিকা প্রসাদ হালদারকে ‘দোহার’ এর সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তাঁর হাত ধরে সেই ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রও দলের পরিবেশনায় জায়গা করে নেয়।
এর পর একে একে মঞ্চে উঠে আসে গান ও নৃত্য। শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা কালিকাপ্রসাদের লেখা ও সুরারোপিত গান নিয়ে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তাঁদের কণ্ঠে প্রয়াত শিল্পীর গান প্রেক্ষাগৃহে তৈরি করে আবেগঘন আবহ।
আমন্ত্রিত শিল্পী বিধান লস্কর, স্বস্তিক চক্রবর্তী এবং শান্তি কুমার ভট্টাচার্যের পাশাপাশি নবীন শিল্পী প্রিয়াঙ্কা দেব রায় একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। কীর্তনশিল্পী অজিত দেব উলুধ্বনির সঙ্গে কীর্তন পরিবেশন করলে প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ আরও আবেগময় হয়ে ওঠে।
শিল্পীর পরিবারের তরফ থেকেও এ দিন শ্রদ্ধা জানানো হয় ভিন্ন ভাবে। কালিকাপ্রসাদের ভ্রাতষ্পুত্র সৌমিত্র শঙ্কর চৌধুরী প্রয়াত শিল্পীর সঙ্গে যুক্ত দুটি ঐতিহ্যবাহী লোকগান ‘প্রভাত সময়ে সতীর অঙ্গিনা মাঝে’ এবং ‘হৃদ মাঝারে থাকব, যেতে দেব না’এর ভিত্তিতে একক নৃত্য পরিবেশন করেন। দর্শকদের উষ্ণ প্রশংসা পায় সেই পরিবেশনা।
শেষে শিলচরের বিশিষ্ট শিল্পীরা একসঙ্গে মঞ্চে উঠে কালিকাপ্রসাদের ‘আমি তোমারি তোমারি নাম গাই’ গানটি পরিবেশন করেন। সেই সমবেত সুরেই যেন শেষ হয় জন্মভূমিতে শিল্পীকে স্মরণের অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী এবং আকাশবাণী শিলচর কেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত ঘোষক মনোজ দেব ও শিক্ষক ভাস্কর দাস। তবলায় সত্যজিৎ শীল, দোতারায় নিতাই দাস, হারমোন…সন্দীপ ভট্টাচার্য এবং শ্রীখোল ও বাংলা ঢোলে ভাস্কর দাস বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন আধিকারিক স্নেহাংশু শেখর রায়, প্রয়াত শিল্পীর কনিষ্ঠা ভগিনী ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য সহ পরিবারের সদস্যরা, শিলচরের বিশিষ্ট সামাজিক তথা সাংস্কৃতিক সংগঠক ও আয়োজক, জয়দীপ চক্রবর্তী,সরকারি বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক, শিল্পী, পরিচালন সমিতির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং শিলচরের সঙ্গীতপ্রেমীরা।অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।