ASSAM
মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের উপস্থিতিতে গীতানগর কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন
দিসপুর, ৬ সেপ্টেম্বর: মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আজ শ্রীমন্ত শঙ্করদেব কলাক্ষেত্রের শ্রীমন্ত শঙ্করদেব আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত গীতানগর কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের মাননীয় উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন এবং অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের উপস্থিতিতে অংশগ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী উচ্চতর শিক্ষা অভিযান (পি এম-ইউ এস এচ এ)-এর অধীনে নির্মিত কলেজের নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের প্রথম অসম সফর। তিনি বলেন, সি. পি. রাধাকৃষ্ণন দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। সংসদীয় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একাধিক রাজ্যের রাজ্যপালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বও পালন করেছেন।
গীতানগর কলেজের ৫০ বছরের গৌরবময় যাত্রা উপলক্ষে কলেজের অধ্যক্ষ, অধ্যাপক- অধ্যাপিকা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানের প্রথম অধ্যক্ষ পদ্মশ্রী ইন্দিরা মিরি, প্রথম পরিচালন সমিতির সভাপতি খনীন্দ্র চন্দ্র বড়ুয়া এবং প্রথম সম্পাদক তথা সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সুচিব্রত রায়চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সনাতন সভ্যতায় যুগে যুগে নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা হয়েছে। নারীর শিক্ষার মাধ্যমে তাঁদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই ১৯৭৭ সালে ‘কন্যা মহাবিদ্যালয়’ নামে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তন করে গীতানগর কলেজ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ দশকের গৌরবময় পথ অতিক্রম করে অসমের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছে।
তিনি স্মরণ করেন যে, অসমের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গীতানগর কলেজের প্রাদেশিকীকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ তাঁর হয়েছিল। তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের লক্ষ্যে কলেজটি আইআইটি গৌহাটিসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এসব অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।
কামরূপ মহানগর জেলার বোন্দা অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা ও প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা কর্মসূচির মতো সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলেজটি সামাজিক দায়বদ্ধতারওউজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি গীতানগর কলেজে বাণিজ্য বিভাগ চালুর জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত বর্তমানে এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে দেশের তরুণ প্রজন্ম অন্যতম প্রধান অংশীদার। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ড০ শর্মা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে বর্তমান বিশ্বে কর্মক্ষেত্রের ধরন আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। তাই শুধুমাত্র একাডেমিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা অর্জনও সমানভাবে জরুরি।
তিনি জানান, নর্থ ইস্ট স্কিল সেন্টার, স্কিল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা এবং পলিটেকনিক ও আইটিআ…আইটিআইগুলির আধুনিকীকরণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্য সরকার যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি অসমের তরুণদের এই সুযোগগুলির সর্বোত্তম ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতায় সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কলেজগুলিতে স্টার্ট-আপ এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতির উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার সম্প্রতি উদ্ভাবন, ইনকিউবেশন ও স্টার্ট-আপ বিষয়ক একটি পৃথক দপ্তর গঠন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অসমের যুবসমাজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে জাপানের মতো দেশ অসমের তরুণদের নিজেদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশীদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে রাজ্য সরকার ‘সিএম-ফ্লাইট (CM-FLIGHT)’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ৫জি, বিগ ডেটা, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জেনোমিক্স এবং থ্রিডি প্রিন্টিং-এর মতো উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব প্রযুক্তি মানবজীবন ও কর্মক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলছে।
ড০ শর্মা বলেন, কলেজগুলির দৃষ্টিভঙ্গি শুধু প্রচলিত পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তা আত্মনির্ভর ভারত ও আত্মনির্ভর অসম গঠনের লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অসম ইতিমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর একটি শক্তিশালী পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি হলে প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প ও প্রতিষ্ঠানগুলি অসমে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। তাইওয়ানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা প্রসেসিংয়ের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা যায়, তবে বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অসমে আসবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন শিল্পে রাজ্য একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।
অসমে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ প্রযুক্তির উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে বুদ্ধিজীবী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর জন্য শুধু পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনলেই হবে না; তরুণ প্রজন্মের চিন্তাভাবনা ও মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞানার্জন নয়; প্রজ্ঞা, নৈতিকতা এবং সৎ চরিত্র গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে দেশপ্রেম ও জাতির প্রতি অঙ্গীকার থাকা উচিত।
এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, “ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ এবং নৈরাজ্য কখনও আমাদের আদর্শ হতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সৃষ্টি। সৃষ্টির আনন্দের চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই। ধ্বংস হয়তো সাময়িক তৃপ্তি দিতে পারে, কিন্তু সৃষ্টির আনন্দ আজীবন স্থায়ী হয়।”
তিনি আরও বলেন, যাঁরা গীতানগর কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, আজও তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অসমের শিক্ষার্থীরা সৃষ্টিশীল মানসিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস, কৌতূহল, সফট স্কিল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে নিজেদের দক্ষ করে নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডঃ রণোজ পেগু, গুয়াহাটি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, বিধায়ক প্রদ্যুত বরদলৈ, প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দ্র নারায়ণ কলিতা, মুখ্যসচিব ড০ রবি কোটা, উচ্চশিক্ষা বিভাগের কমিশনার ও সচিব নারায়ণ কোঁওর, গীতানগর কলেজের অধ্যক্ষ ড০ সত্যজিৎ কলিতা-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের প্রথম অসম সফর। তিনি বলেন, সি. পি. রাধাকৃষ্ণন দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। সংসদীয় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একাধিক রাজ্যের রাজ্যপালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বও পালন করেছেন।
গীতানগর কলেজের ৫০ বছরের গৌরবময় যাত্রা উপলক্ষে কলেজের অধ্যক্ষ, অধ্যাপক- অধ্যাপিকা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানের প্রথম অধ্যক্ষ পদ্মশ্রী ইন্দিরা মিরি, প্রথম পরিচালন সমিতির সভাপতি খনীন্দ্র চন্দ্র বড়ুয়া এবং প্রথম সম্পাদক তথা সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সুচিব্রত রায়চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সনাতন সভ্যতায় যুগে যুগে নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা হয়েছে। নারীর শিক্ষার মাধ্যমে তাঁদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই ১৯৭৭ সালে ‘কন্যা মহাবিদ্যালয়’ নামে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তন করে গীতানগর কলেজ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ দশকের গৌরবময় পথ অতিক্রম করে অসমের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছে।
তিনি স্মরণ করেন যে, অসমের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গীতানগর কলেজের প্রাদেশিকীকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ তাঁর হয়েছিল। তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের লক্ষ্যে কলেজটি আইআইটি গৌহাটিসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এসব অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী তাদের প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।
কামরূপ মহানগর জেলার বোন্দা অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা ও প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা কর্মসূচির মতো সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলেজটি সামাজিক দায়বদ্ধতারওউজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি গীতানগর কলেজে বাণিজ্য বিভাগ চালুর জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত বর্তমানে এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে দেশের তরুণ প্রজন্ম অন্যতম প্রধান অংশীদার। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ড০ শর্মা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে বর্তমান বিশ্বে কর্মক্ষেত্রের ধরন আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। তাই শুধুমাত্র একাডেমিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা অর্জনও সমানভাবে জরুরি।
তিনি জানান, নর্থ ইস্ট স্কিল সেন্টার, স্কিল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা এবং পলিটেকনিক ও আইটিআ…আইটিআইগুলির আধুনিকীকরণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্য সরকার যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। তিনি অসমের তরুণদের এই সুযোগগুলির সর্বোত্তম ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতায় সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কলেজগুলিতে স্টার্ট-আপ এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতির উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার সম্প্রতি উদ্ভাবন, ইনকিউবেশন ও স্টার্ট-আপ বিষয়ক একটি পৃথক দপ্তর গঠন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অসমের যুবসমাজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে জাপানের মতো দেশ অসমের তরুণদের নিজেদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশীদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে রাজ্য সরকার ‘সিএম-ফ্লাইট (CM-FLIGHT)’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ৫জি, বিগ ডেটা, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জেনোমিক্স এবং থ্রিডি প্রিন্টিং-এর মতো উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব প্রযুক্তি মানবজীবন ও কর্মক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলছে।
ড০ শর্মা বলেন, কলেজগুলির দৃষ্টিভঙ্গি শুধু প্রচলিত পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তা আত্মনির্ভর ভারত ও আত্মনির্ভর অসম গঠনের লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অসম ইতিমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর একটি শক্তিশালী পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি হলে প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প ও প্রতিষ্ঠানগুলি অসমে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। তাইওয়ানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা প্রসেসিংয়ের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা যায়, তবে বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অসমে আসবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন শিল্পে রাজ্য একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।
অসমে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ প্রযুক্তির উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে বুদ্ধিজীবী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর জন্য শুধু পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনলেই হবে না; তরুণ প্রজন্মের চিন্তাভাবনা ও মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞানার্জন নয়; প্রজ্ঞা, নৈতিকতা এবং সৎ চরিত্র গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে দেশপ্রেম ও জাতির প্রতি অঙ্গীকার থাকা উচিত।
এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, “ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ এবং নৈরাজ্য কখনও আমাদের আদর্শ হতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সৃষ্টি। সৃষ্টির আনন্দের চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই। ধ্বংস হয়তো সাময়িক তৃপ্তি দিতে পারে, কিন্তু সৃষ্টির আনন্দ আজীবন স্থায়ী হয়।”
তিনি আরও বলেন, যাঁরা গীতানগর কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, আজও তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অসমের শিক্ষার্থীরা সৃষ্টিশীল মানসিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস, কৌতূহল, সফট স্কিল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে নিজেদের দক্ষ করে নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডঃ রণোজ পেগু, গুয়াহাটি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, বিধায়ক প্রদ্যুত বরদলৈ, প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দ্র নারায়ণ কলিতা, মুখ্যসচিব ড০ রবি কোটা, উচ্চশিক্ষা বিভাগের কমিশনার ও সচিব নারায়ণ কোঁওর, গীতানগর কলেজের অধ্যক্ষ ড০ সত্যজিৎ কলিতা-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।