ASSAM
শ্রীভূমিতে ৪০ জন কৃতি শিক্ষককে সংবর্ধনা সরকারি অনুষ্ঠানে
শ্রীভূমি ৫ সেপ্টেম্বর : সমগ্র দেশের সঙ্গে শ্রীভূমিতে ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ৬৫ তম শিক্ষক দিবস পালন করা হয়েছে। শ্রীভূমি জেলা শিক্ষক দিবস উদযাপন সমিতির উদ্যোগে ড° সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ ও শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে সকাল ১০টায় জেলা গ্রন্থাগার ভবনে এক মহতী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন শ্রীভূমির জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী। অনুষ্ঠানে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত সপ্ততি এন্দো, দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রসিদ চৌধুরী, রাজ্য সভার প্রাক্তন সাংসদ মিশন রঞ্জন দাস, সহকারী আয়ুক্ত প্রিয়াঙ্কা ইউমনাম প্রমুখ সম্মানিত অতিথি হিসেবে তথা বিদ্যালয় সমূহের পরিদর্শক নিলম জ্যোতি দাস, বিদ্যালয় সমূহের উপপরিদর্শক খয়রুল ইসলাম হাজারি এবং নির্ধারিত বক্তার আসনে হোজাইর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপাচার্য ড° অমলেন্দু চক্রবর্তী সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা, ছাত্র ছাত্রী, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি ও সংবর্ধিত হতে আসা শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ড° সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে সভার সূচনা করা হয়। এতে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করে সরস্বতী বিদ্যানিকেতনের ছাত্র ছাত্রীরা। সভায় স্বাগত ভাষণ প্রদান ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন বিদ্যালয় সমূহের পরিদর্শক এবং জেলা শিক্ষক দিবস উদযাপন সমিতির সম্পাদক নিলম জ্যোতি দাস। তিনি বিদ্বান মনীষী, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক তথা ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্ম দিবসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর তারিখে শিক্ষক দিবস পালন করা হয় বলে জানিয়ে, বলেন, পিতৃ মাতৃর পরই শিক্ষা গুরুর স্থান, তাই শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন সকলের কর্তব্য। তিনি এদিনের অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা প্রাপক শিক্ষকদের প্রতি তার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন সাংসদ মিশন রঞ্জন দাস বলেন শিক্ষকরাই হচ্ছেন সমাজের মেরুদন্ড এবং সুস্থ সবল ও শিক্ষিত সমাজ গড়ার কারিগর। মাতা পিতার পরই শিক্ষকের স্থান। তাই তিনি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রসিদ চৌধুরী শিক্ষক সমাজের প্রতি তার শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রকৃত শিক্ষা দানের মাধ্যমে শিক্ষকরা যে সমাজের ও দেশের ভিত মজবুত করছেন তার জন্য শিক্ষক সমাজের প্রতি ধন্যবাদ জানান। এতে এডিসি সপ্ততি এন্দো শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন যে শিক্ষকদের নিরলস প্রয়াসের ফলেই সমাজের ভিত মজবুত হয়। একটি শান্ত ক্লাসে হাতে চক সামনে ব্ল্যাকবোর্ড নিয়ে শিক্ষকরা যে শিক্ষা দান করেন তা অনস্বীকার্য। অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বক্তার আসনে ড° অমলেন্দু চক্রবর্তী ড° সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণনের জীবন, আদর্শ, দর্শন নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা করেন। তিনি বলেন যেভাবে মাতা পিতা চান তাদের সন্তান তাদের চেয়েও অধিক সুনাম অর্জন করুক এবং একজন আদর্শবান মানুষ হউক একইভাবে শিক্ষকরাও চান যে তাদের ছাত্র তাদের থেকে অনেক বড় হউক। প্রসঙ্গত তিনি বর্তমান পাশ্চাত্য শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভাবে যুব প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন শিক্ষা হচ্ছে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ধাবিত করার একমাত্র হাতিয়ার। তিনি জানান ঋগ্বেদে প্রথম ধ্বনিত হয়েছিল অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আাসার আকুল আগ্রহ। যা হচ্ছে শিক্ষা এবং শিক্ষকরা এই কাজ করেন। তাই তিনি শিক্ষকদের প্রতি তার অশেষ শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে জেলা আয়ুক্ত শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাদের অবদানকে স্মরণ করেন এবং শিক্ষক সমাজকে নিষ্ঠার সাথে শিক্ষা দান করতে ও রাষ্ট্র নির্মাণের অংশীদার হতে আহ্বান জানান। তিনি মূলত প্রাথমিক স্তরে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠাবান হয়ে শিক্ষা দান করার গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ গড়ার মূল সময় এবং ওই সময়ই যদি তাদের শিক্ষার প্রতি অগ্রহ বৃদ্ধি ও ভিত মজবুত না করা যায় তবে পরে তাদের শিকার প্রতি অনীহা গড়ে উঠে। তাই তিনি শিক্ষকদের প্রাথমিক স্তরে মনে প্রাণে সচেষ্ট হতে আহ্বান জানান। এদিনের অনুষ্ঠানে জেলার মোট ৪০ জন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষকদের সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা প্রাপক শিক্ষকরাও ভাষণ প্রদান করে তাদের মনের কথা, শিক্ষক জীবনের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি তুলে ধরেন এবং অনুষ্ঠান উদযাপন সমিতির প্রতি ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জানান বিদ্যালয় সমূহের উপপরিদর্শক খয়রুল ইসলাম হাজারি এবং সরস্বতী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের ছাত্র ছাত্রীদের সমাপ্তি সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।