ASSAM
“পরিশ্রম ছাড়া সাফল্যের কোনও বিকল্প নেই” লক্ষ্মীপুরে পড়ুয়াদের উদ্দেশে জোরালো বার্তা মন্ত্রী কৌশিক রায়ের;
“পরিশ্রম ছাড়া সাফল্যের অন্য কোনও বিকল্প নেই। যে সমস্ত পড়ুয়া কঠোর পরিশ্রম করবে, তারা অবশ্যই তার ফল পাবে।” শুক্রবার লক্ষ্মীপুরে পড়ুয়াদের উদ্দেশে এই বার্তা দেন অসম সরকারের খাদ্য ও গণবণ্টন, আবাসন ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায়। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য HSLC পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ে পড়াশোনাকেই জীবনের সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তিনি পড়ুয়াদের আহ্বান জানান।
নেহরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের HSLC পরীক্ষার জন্য মন্ত্রী কৌশিক রায়ের ব্যাক্তিগত উদ্যোগে সাজেশন বই বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন,লক্ষীপুর বিধানসভা সমষ্টির সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করার জন্য পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে অধ্যয়নরত প্রায় ২,২০০ জন পড়ুয়া এই সাজেশন বই পাবেন।
মন্ত্রী রায় জানান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা এবং পড়ুয়াদের শিক্ষাগত প্রয়োজন সম্পর্কে তাঁদের পরামর্শ নেওয়ার পর এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নেহরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেই সাজেশন বই বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ে এই বই বিতরণের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। অবশিষ্ট সাজেশন বই আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যালয়গুলিতে পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে পড়ুয়ারা ক্রমশ আরও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে পরীক্ষায় বসছে। ফলে মূল্যায়নের পরিবর্তিত ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রেখে তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আগের দিনের শিক্ষাব্যবস্থার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় ম্যাট্রিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়াকেও বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হত। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে এবং বর্তমানে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হচ্ছে।
“বিভাগ বা ডিভিশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়। পড়ুয়াদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হতে পারে,” বলেন মন্ত্রী রায়। শুধুমাত্র HSLC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্য না রেখে একটি শক্তিশালী শিক্ষাগত ভিত গড়ে তোলার দিকে পড়ুয়াদের মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক অভিভাবকের স্বপ্ন থাকে তাঁদের সন্তানরা জীবনে সফল ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই শুধুমাত্র HSLC পরীক্ষায় পাশ করাকেই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। উচ্চশিক্ষার সুযোগ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পড়ুয়াদের আরও বেশি নম্বর অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
লক্ষ্মীপুরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, বর্তমানে এই বিধানসভা কেন্দ্রে একটি মডেল ডিগ্রি কলেজ এবং একটি ল কলেজ রয়েছে। এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ গ্রহণ করে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের জন্য পড়ুয়াদের স্কুলস্তর থেকেই গুরুত্ব সহকারে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
“উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ কারও সুপারিশের মাধ্যমে পাওয়ার দিন এখন অতীত। আজ পড়ুয়াদের নিজেদের নম্বর এবং মেধার ভিত্তিতেই নিজেদের জায়গা করে নিতে হবে,” বলেন মন্ত্রী।
রাজ্যের কর্মসংস্থানের সুযোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী কৌশিক রায়। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার গত পাঁচ বছরে মেধার ভিত্তিতে প্রায় ১.৬০ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আরও দুই লক্ষ চাকরিপ্রার্থীকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন বলেও জানান তিনি।
“সরকারি চাকরিতে পিছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের কোনও জায়গা নেই। কোনও বিধায়ক বা মন্ত্রীর মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হবে না। পড়ুয়ার মেধাই তাকে চাকরি এনে দেবে,” বলেন মন্ত্রী কৌশিক রায়। শৃঙ্খলা ও দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য তিনি পড়ুয়াদের আহ্বান জানান।
HSLC পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলি নষ্ট না করার জন্য পড়ুয়াদের প্রতি আবেদন জানিয়ে মন্ত্রী ব…বলেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি আর বেশি দূরে নয় এবং বর্তমান সময় তাঁদের শিক্ষাজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। তাই পড়াশোনায় সর্বাধিক সময় দেওয়ার পাশাপাশি সরকার ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে দেওয়া সহায়তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার জন্য তিনি পড়ুয়াদের পরামর্শ দেন।
মন্ত্রী রায় আরও ঘোষণা করেন, পড়ুয়াদের অতিরিক্ত শিক্ষাগত সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে অতিরিক্ত ক্লাস চালু করা হবে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কেরিয়ার গাইডেন্স এবং কোচিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে পড়ুয়ারা বিভিন্ন পেশাগত সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
মন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী বছর লক্ষ্মীপুরে বিনামূল্যে MBBS কোচিং চালু করা হবে। এর ফলে পড়ুয়ারা এলাকার বাইরে ব্যয়বহুল কোচিং প্রতিষ্ঠানের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়েই NEET পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে। একই সঙ্গে আগামী বছরের প্রথম ভাগে লক্ষ্মীপুরে একটি APSC কোচিং সেন্টার চালু করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।
তিনি জানান, খুব শীঘ্রই ADERE কোচিং ক্লাসও চালু করা হবে এবং পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ সরকার অব্যাহত রাখবে। তবে একই সঙ্গে তিনি পড়ুয়াদের মনে করিয়ে দেন, সরকারি সহায়তা তাঁদের সামনে সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করবে তাঁদের নিজেদের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং অধ্যবসায়ের উপর।
মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, ছাত্রীদের জন্য ‘নিজুত মইনা’ এবং ছাত্রদের জন্য ‘নিজুত বাবু’-র মতো উদ্যোগ চালু করার ফলে শিক্ষার পথে এগিয়ে চলা তরুণ-তরুণীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে লক্ষ্মীপুরের জন্য তাঁর বৃহত্তর অগ্রাধিকারের কথাও ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে রাস্তা, পরিকাঠামো এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নের উপরও আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা, জ্ঞান ও সক্ষমতার বিকাশ লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, নেহরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই বিতরণ কর্মসূচিতে আসন্ন HSLC পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পড়ুয়াদের পথনির্দেশ করার উদ্দেশ্যে সাজেশন বই তুলে দেওয়া হয়। বিশেষ করে আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য এই উদ্যোগ অতিরিক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, স্কুলশিক্ষার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই উদ্যোগ পড়ুয়াদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিজের বক্তব্যের শেষে ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মন্ত্রী কৌশিক রায়। পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবনের পথচলায় তাঁদের দিকনির্দেশনা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি স্বীকার করেন।
অসমের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।
পি.
নেহরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের HSLC পরীক্ষার জন্য মন্ত্রী কৌশিক রায়ের ব্যাক্তিগত উদ্যোগে সাজেশন বই বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন,লক্ষীপুর বিধানসভা সমষ্টির সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করার জন্য পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে অধ্যয়নরত প্রায় ২,২০০ জন পড়ুয়া এই সাজেশন বই পাবেন।
মন্ত্রী রায় জানান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা এবং পড়ুয়াদের শিক্ষাগত প্রয়োজন সম্পর্কে তাঁদের পরামর্শ নেওয়ার পর এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নেহরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেই সাজেশন বই বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ে এই বই বিতরণের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। অবশিষ্ট সাজেশন বই আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যালয়গুলিতে পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে পড়ুয়ারা ক্রমশ আরও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে পরীক্ষায় বসছে। ফলে মূল্যায়নের পরিবর্তিত ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রেখে তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আগের দিনের শিক্ষাব্যবস্থার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় ম্যাট্রিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়াকেও বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হত। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে এবং বর্তমানে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হচ্ছে।
“বিভাগ বা ডিভিশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়। পড়ুয়াদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হতে পারে,” বলেন মন্ত্রী রায়। শুধুমাত্র HSLC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্য না রেখে একটি শক্তিশালী শিক্ষাগত ভিত গড়ে তোলার দিকে পড়ুয়াদের মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক অভিভাবকের স্বপ্ন থাকে তাঁদের সন্তানরা জীবনে সফল ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই শুধুমাত্র HSLC পরীক্ষায় পাশ করাকেই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। উচ্চশিক্ষার সুযোগ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পড়ুয়াদের আরও বেশি নম্বর অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
লক্ষ্মীপুরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, বর্তমানে এই বিধানসভা কেন্দ্রে একটি মডেল ডিগ্রি কলেজ এবং একটি ল কলেজ রয়েছে। এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ গ্রহণ করে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের জন্য পড়ুয়াদের স্কুলস্তর থেকেই গুরুত্ব সহকারে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
“উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ কারও সুপারিশের মাধ্যমে পাওয়ার দিন এখন অতীত। আজ পড়ুয়াদের নিজেদের নম্বর এবং মেধার ভিত্তিতেই নিজেদের জায়গা করে নিতে হবে,” বলেন মন্ত্রী।
রাজ্যের কর্মসংস্থানের সুযোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী কৌশিক রায়। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার গত পাঁচ বছরে মেধার ভিত্তিতে প্রায় ১.৬০ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আরও দুই লক্ষ চাকরিপ্রার্থীকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন বলেও জানান তিনি।
“সরকারি চাকরিতে পিছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের কোনও জায়গা নেই। কোনও বিধায়ক বা মন্ত্রীর মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হবে না। পড়ুয়ার মেধাই তাকে চাকরি এনে দেবে,” বলেন মন্ত্রী কৌশিক রায়। শৃঙ্খলা ও দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য তিনি পড়ুয়াদের আহ্বান জানান।
HSLC পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলি নষ্ট না করার জন্য পড়ুয়াদের প্রতি আবেদন জানিয়ে মন্ত্রী ব…বলেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি আর বেশি দূরে নয় এবং বর্তমান সময় তাঁদের শিক্ষাজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। তাই পড়াশোনায় সর্বাধিক সময় দেওয়ার পাশাপাশি সরকার ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে দেওয়া সহায়তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার জন্য তিনি পড়ুয়াদের পরামর্শ দেন।
মন্ত্রী রায় আরও ঘোষণা করেন, পড়ুয়াদের অতিরিক্ত শিক্ষাগত সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে অতিরিক্ত ক্লাস চালু করা হবে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কেরিয়ার গাইডেন্স এবং কোচিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে পড়ুয়ারা বিভিন্ন পেশাগত সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
মন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী বছর লক্ষ্মীপুরে বিনামূল্যে MBBS কোচিং চালু করা হবে। এর ফলে পড়ুয়ারা এলাকার বাইরে ব্যয়বহুল কোচিং প্রতিষ্ঠানের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়েই NEET পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে। একই সঙ্গে আগামী বছরের প্রথম ভাগে লক্ষ্মীপুরে একটি APSC কোচিং সেন্টার চালু করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।
তিনি জানান, খুব শীঘ্রই ADERE কোচিং ক্লাসও চালু করা হবে এবং পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ সরকার অব্যাহত রাখবে। তবে একই সঙ্গে তিনি পড়ুয়াদের মনে করিয়ে দেন, সরকারি সহায়তা তাঁদের সামনে সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করবে তাঁদের নিজেদের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং অধ্যবসায়ের উপর।
মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, ছাত্রীদের জন্য ‘নিজুত মইনা’ এবং ছাত্রদের জন্য ‘নিজুত বাবু’-র মতো উদ্যোগ চালু করার ফলে শিক্ষার পথে এগিয়ে চলা তরুণ-তরুণীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে লক্ষ্মীপুরের জন্য তাঁর বৃহত্তর অগ্রাধিকারের কথাও ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে রাস্তা, পরিকাঠামো এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নের উপরও আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা, জ্ঞান ও সক্ষমতার বিকাশ লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, নেহরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই বিতরণ কর্মসূচিতে আসন্ন HSLC পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পড়ুয়াদের পথনির্দেশ করার উদ্দেশ্যে সাজেশন বই তুলে দেওয়া হয়। বিশেষ করে আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য এই উদ্যোগ অতিরিক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, স্কুলশিক্ষার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই উদ্যোগ পড়ুয়াদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিজের বক্তব্যের শেষে ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মন্ত্রী কৌশিক রায়। পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবনের পথচলায় তাঁদের দিকনির্দেশনা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি স্বীকার করেন।
অসমের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।
পি.